নতুন
আত্মকথা
বিভূতিভূষণের ডাইরি: ১৯৩৩
সারসংক্ষেপ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯১৮ থেকে ১৯৫০ সালে মৃত্যুর তিনদিন আগে পর্যন্ত নিয়মিত দিনলিপি, ডাইরি লিখেছেন। শুধু লেখকের ব্যক্তিজীবন, ব্যক্তিগত বিচিত্র অন্তরঙ্গ অনুভূতি, তাঁর শিল্পসত্তা, শিল্পকর্মের উৎসই নয়, সে সময়ের সামাজিক জীবনের প্রামাণ্য দলিল তাঁর দিনলিপি। এদেশের এক বৃহৎ ভূখণ্ডের প্রাকৃতিক ও মানব জগতের অন্তরঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায় বিভূতিভূষণের দিনলিপিতে।
তাঁর ডাইরি বা দিনলিপিতে খুব অস্পষ্ট ভাবে কয়েকটি বিভাগকে স্পষ্ট কার যায়- প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনাবলী, ব্যক্তিগত জীবনোপলব্ধি, ভ্রমণকাহিনী ধরনের টানা লেখা এবং ভবিষ্যতে কী লিখবেন তার খসড়া ও প্রয়োজনীয় কৃত্যের স্মারক, হিসাবনিকাশ ইত্যাদি। একটি বিষয় নিয়ে লিখতে লিখতে বিভূতিভূষণ অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়ান্তরে প্রবেশ করেছেন। স্বগ্রামের প্রাত্যহিক জীবনকাহিনীকে বিম্বিত করতে গিয়ে অকস্মাৎই মহাবিশ্বের বিশালতার কথা ভেবে স্পন্দিত হয়েছেন। তারপরের দিনই হয়ত চলন্ত রেলগাড়ির জানালা দিয়ে বিহার ও উড়িষ্যার সীমান্তের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে উচ্ছ্বসিত হচ্ছেন। আবার এর দু-পাতা পরেই হয়ত মাসে লিখে কত টাকা উপার্জন করতে পারলে উনি কলকাতার চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন তার একটা হিসেব করেছেন। দিনলিপিতে উল্লিখিত অনেক মানুষই পরবর্তীকালে তাঁর সাহিত্যের চরিত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৩৩ সালের ডাইরি প্রকাশিত হল।